এনটিআরসিএ সনদ জালিয়াতি মামলায় মাদ্রাসা সুপার গ্রেফতার
বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ছবিতে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার
নিজস্ব প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. সাইদুর রহমানকে এনটিআরসিএ (NTRCA) সনদ জালিয়াতির একটি মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এনটিআরসিএ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ভাতিজা মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সহকারী মৌলভী পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর সিআর-১৫২৬। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম এ মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নিয়োগের বিনিময়ে সুপার মো. সাইদুর রহমান তার ভাতিজার কাছ থেকে ভুরুঙ্গামারী পাবলিক ক্লাবের পূর্ব পাশে অবস্থিত প্রায় ৩ শতক জমি, বাড়ি ও দোকান লিখে নেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার শুনানির জন্য আদালত একাধিকবার সমন জারি করলেও অভিযুক্ত আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে অন্য একটি মামলায় ১৪ দিন কারাভোগের ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে তার ভাতিজা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেতনও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড স্থগিত করেছিল। পরে প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি না থাকায় তাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়।
বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে গেলে তিনি নিজেকে পুনর্বহাল দাবি করে পূর্ণ বেতন প্রদানের আবেদন করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনগত বৈধতা না থাকায় পূর্ণ বেতন দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিধি অনুযায়ী তার আংশিক বেতন ও অন্যান্য শিক্ষকদের পূর্ণ বেতন উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ অবস্থায় তিনি শিক্ষকদের বেতন বিলেও স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বর ত্যাগ করার সময় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও মো. সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষক হয়রানি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুপার মো. সাইদুর রহমানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন হওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা রয়েছে।
প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট থানার গ্রেপ্তারের তথ্য, আদালতের নথি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো, যাতে সংবাদটি সম্পূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ ও নির্ভুল থাকে।

আপনার মতামত লিখুন